বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি সরকারি হাসপাতালের বেহাল ও নোংরা টয়লেটের দিকে নির্দেশ করতে দেখা যাচ্ছে ছবিতে।
এই ঘটনাটি ঘটেছে ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে, যখন তিনি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট-এ একটি আকস্মিক পরিদর্শন (Surprise Inspection) চালান।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের টয়লেটগুলোর অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে তিনি তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন।
প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে আমাদের সম্পদ আছে, সঠিক ব্যবস্থাপনা নাই। বিল্ডিং আছে, রক্ষণাবেক্ষণ নাই, পরিচ্ছন্নতা নাই। অবকাঠামো বা সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সঠিক তদারকি, জবাবদিহিতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আমাদের দেশের বহু সরকারি প্রতিষ্ঠান (হাসপাতাল, স্কুল বা কলেজ) তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না।
এ ধরনের চরম অব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

কঠোর প্রশাসনিক তদারকি ও নিয়মিত জবাবদিহিতা
আকস্মিক পরিদর্শন (Surprise Audits): শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী নন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের নিয়মিত বিরতিতে কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করতে হবে। এই পরিদর্শনে দায়িত্বরতদের গাফিলতি ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
জবাবদিহিতার নীতি: প্রতিটি ওয়ার্ড, বিভাগ বা ফ্লোরের অপরিচ্ছন্নতার জন্য নির্দিষ্ট কর্মচারিদের জবাবদিহিতা থাকতে হবে। কাজের মূল্যায়ন করে তাদের পদোন্নতি বা শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে থার্ড-পার্টি মনিটরিং ও আইটি হাব গঠন
ডিজিটাল কমপ্লেইন বক্স: সেবাগ্রহীতারা যাতে কোনো নোংরা পরিবেশ বা অনিয়ম দেখলে সরাসরি ছবি তুলে বা মেসেজ দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন, তার জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল অ্যাপ বা হটলাইন সচল করা দরকার।
স্বাধীন মূল্যায়ন: হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কোনো কোনো ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং বা স্বাধীন থার্ড-পার্টি এজেন্সিকে দেওয়া যেতে পারে, যাদের কাজের ওপর ভিত্তি করে তাদের চুক্তি নবায়ন করা হবে।
বরাদ্দ ও বাজেটের সঠিক ব্যবহার
• রক্ষণাবেক্ষণ বাজেট: অনেক সময় ভবন তৈরির জন্য বিপুল অর্থ খরচ করা হলেও দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী (যেমন: জীবাণুনাশক, সাবান, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখা) এবং স্টাফদের পেছনে পর্যাপ্ত বাজেট থাকে না। বাজেটের একটি বড় অংশ রক্ষণাবেক্ষণ খাতে সুনির্দিষ্টভাবে বরাদ্দ এবং তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
পেশাদারিত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির পরিবর্তন
• স্টাফদের যথাযথ প্রশিক্ষণ: পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
• শাস্তি ও পুরস্কারের ব্যবস্থা: যারা সততা ও নিষ্ঠার সাথে প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখবেন তাদের পুরস্কৃত করা এবং যারা দায়িত্বে অবহেলা করবেন (যেমন এই সফরেই কর্তব্যরত অবস্থায় ধূমপান করার অপরাধে এক চিকিৎসককে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে) তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি
• শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর না করে সেবাগ্রহণকারী সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা এবং সরকারি সম্পদ নিজের মনে করে ব্যবহার করার মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন।
সম্পদ ও মেধার অভাব আমাদের নেই; অভাব রয়েছে শুধু একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কাঠামো (Governance Mechanism) এবং কঠোর তদারকির।
এ ধরনের নিয়মিত ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমেই কেবল এই সামগ্রিক পরিবেশগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।
