বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। পাহাড়, সমুদ্র, নদী, হাওর, চা-বাগান, সুন্দরবন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তা আমাদের বড় সম্পদ। আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি অঞ্চলকে স্বতন্ত্র পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলাই আমার স্বপ্ন।
গন্তব্য নয়, তৈরি করতে হবে পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা
পর্যটন শুধু দর্শনীয় স্থান দেখার বিষয় নয়। যাতায়াত, আবাসন, খাবার, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও স্থানীয় সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা—সবকিছু মিলিয়েই একটি ভ্রমণ পূর্ণতা পায়। তাই পর্যটন কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নত করতে হবে। শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানের সৌন্দর্যের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী খাবার, স্থানীয় সংস্কৃতি, হস্তশিল্প ও মানসম্মত আবাসন যুক্ত করা গেলে পর্যটন আরও সমৃদ্ধ হবে।
টেকসই পর্যটনে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ
পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নির্ভরযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট, নিরাপত্তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পর্যটনের বিকাশ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় ব্যবসার প্রসার এবং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে।
মানসম্মত সেবা ও প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা
ছুটি গ্রুপ অতিথিদের নির্ভরযোগ্য ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা দিতে কাজ করছে। গাজীপুর, পূর্বাচল ও পুবাইলে গ্রুপের তিনটি রিসোর্ট ISO 9001:2015 কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সনদপ্রাপ্ত। তবে প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে প্রতিদিনের সেবার মান ও অতিথিদের সন্তুষ্টির ওপর। পর্যটন উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় বৈশিষ্ট্য ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।
ছুটি গ্রুপের আগামী দিনের পরিকল্পনা
পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে ছুটি গ্রুপের উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলো হলো: পুবাইলে পাঁচ তারকা মানের ‘ছুটি সিগনেচার’, পূর্বাচলে ‘ছুটি হারমনি’, কক্সবাজারে ‘ছুটি বিচ রিসোর্ট’, শ্রীমঙ্গলে ‘সালতানাত টি রিসোর্ট’, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে ‘সালতানাত হাইওয়ে ভিলেজ’ এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ‘আনন্দবাড়ি’।
এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—মানসম্মত সেবা প্রদান, উন্নত ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখা।
অভিজ্ঞতা, আস্থা ও তরুণদের ভূমিকা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যটন প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে প্রচারের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার মিল থাকা আবশ্যক। সন্তুষ্ট পর্যটকই একটি গন্তব্যের সবচেয়ে কার্যকর প্রচারক। পাশাপাশি প্রযুক্তি, ফটোগ্রাফি, কনটেন্ট নির্মাণ, ভ্রমণ পরিকল্পনা ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে তরুণদের অংশগ্রহণ নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
২০৩০ বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের পর্যটন
২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমাদের প্রকৃতি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার, কারুশিল্প ও মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে হবে। পরিকল্পিত উন্নয়ন, মানসম্মত সেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সবার সম্মিলিত উদ্যোগই এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ।
আমার স্বপ্ন, পর্যটকরা বাংলাদেশে এসে প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করবেন, মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হবেন এবং দেশে ফিরে অন্যদের কাছে বাংলাদেশের গল্প বলবেন। বাংলাদেশ শুধু দেখার মতো নয়, অনুভব করার মতো একটি পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠুক—এটাই আমার প্রত্যাশা।
লেখক: চেয়ারম্যান, ছুটি গ্রুপ।
