শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের অবকাশে সমুদ্রের ঢেউয়ে গা ভেজানো, সৈকতে হাঁটাহাঁটি আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো- এমনই আনন্দের খোঁজে দেশের প্রধানতম ভ্রমণগন্তব্য কক্সবাজারে ছুটে আসছেন পর্যটকেরা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর দিন সকাল থেকেই শহরের সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টে মানুষের ভিড় লক্ষ্য গেছে। বিকেলে লাবণী পয়েন্টে দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে এবং চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
ছুটি কাটাতে আসা পর্যটকেরা সৈকতে কেউ পরিবার নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে মেতে উঠছেন আনন্দে।
সৈকতে সমুদ্রস্নান নিরাপদ করতে পর্যটক সমাগম হওয়া পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন সি-সেইফ লাইফগার্ডের সদস্যরা।
সদস্যরা সাধারণ জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সাগরে নামার সময় পর্যটকদের সতর্ক থাকতে হবে। লাইফগার্ডদের নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত এলাকায় গোসল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, পাঁচ দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে ৫ লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হতে পারে। এরই মধ্যে শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও কটেজের প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১০ জন পর্যটক, ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্তকতা ও বাড়তি নজরদারি আরোপ করা হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ অহিদুর রহমান জানান , পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সমুদ্রসৈকতসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের দল দায়িত্ব পালন করছে একইসঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতাও অব্যাহত আছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটনশিল্পের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা প্রশাসনের অগ্রাধিকার।
পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেওয়া বা তাদের হয়রানি করা হচ্ছে কি না, এ ছাড়া আবাসনের ক্ষেত্রে কোনো অব্যবস্থাপনা আছে কিনা তা নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
