কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব পর্যটনের বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬ আয়োজিত হয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) মেলার শেষ দিনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং, ক্রুজ ভ্রমণ ও ভিসা প্রক্রিয়াকরণে বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এসব অফার নিতে শেষ দিনে দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহও দেখা গেছে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে ১৪তম এ মেলা আজ রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।
আয়োজকেরা জানান, এবারের মেলায় ১২০টি দেশি–বিদেশি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। সব মিলিয়ে ২২০ স্টল ও ২০টি প্যাভিলিয়ন রয়েছে মেলায়। যার মধ্যে রয়েছে বিমান সংস্থা, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল, রিসোর্ট, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানও। মেলা উপলক্ষে এসব প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও সেবায় নানা মূল্যছাড় দিচ্ছে।
মেলায় করা যাবে বিনিয়োগ
মেলায় কক্সবাজার, কুয়াকাটা, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে হোটেল, রিসোর্ট এবং হসপিটালে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেকে একটি ফাইভ স্টার হোটেল প্রজেক্ট ‘ছুটি বিচ রিসোর্ট’ তৈরি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির চিফ মার্কেটিং অফিসার সৈয়দ ইবনে সামি জানান, সর্বোনিম্ন ৬ লাখ টাকা দিয়ে বিনিয়োগ করা যাবে প্রজেক্টটিতে।
আছে প্যাকেজ সুবিধা
এবারের মেলায় নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠানের স্টলও রয়েছে। ১২টি ট্যুর অপারেটর, এয়ারলাইনস ও ট্রাভেল এজেন্সি প্রতিষ্ঠান নিয়ে রয়েছে নেপালের স্টল। সেই স্টলে কথা হয় নেপাল অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল এজেন্টসের সহসভাপতি ঘনসেম ঘিমির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দুই দেশেরই পর্যটনে বড় সম্ভাবনা রয়েছে।’
মেলায় অংশ নিয়েছে মালদ্বীপের ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান সানস্যান্ড মালদ্বীপ। দেশের ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে মিলে পর্যটনসেবা দেয় এই প্রতিষ্ঠান। তবে মেলায় তাদের সরাসরি প্যাকেজ কেনা যাবে। সানস্যান্ড মালদ্বীপের পরিচালক শাকিবা হুসেইন বলেন, ‘মেলায় আমাদের স্টলে থেকে প্যাকেজ নিলে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত খরচ কমবে।’
এ ছাড়া শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস, ফ্লাই এমিরেটস, এয়ার এশিয়া, বিমান বাংলাদেশসহ বিভিন্ন এয়ারলাইনসও নানা ছাড় দিচ্ছে মেলায়। বিমান বাংলাদেশ ১১টি দেশের টিকিটে ১৫ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে। বিমান বাংলাদেশের বিপণন ও বিক্রয় বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মেলা চলাকালে আমাদের অন্যান্য বিক্রয়কেন্দ্রেও এই মূল্যছাড় সুবিধা পাওয়া যাবে।’
বিমান টিকিটে থাকছে ছাড়
মেলায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস নির্দিষ্ট গন্তব্যের বিমান টিকিটে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় সমন্বয়কারী মো. মেহেদী হাসান জানান, আন্তর্জাতিক রুটের টিকিটে ১২ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ রুটে ১৫ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাচ্ছে। মোট ১৯টি গন্তব্যের জন্য এ অফার প্রযোজ্য। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক গন্তব্য ১৪টি এবং অভ্যন্তরীণ পাঁচটি।
এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসও মেলায় ১৭টি গন্তব্যের টিকিটে ১৫ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. মহসিন এ তথ্য জানিয়েছেন।
ভিসা প্রক্রিয়াকরণে অর্ধেক ছাড়
ভ্রমণসেবা প্রতিষ্ঠান ট্রিপ সাইলো মেলায় ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সেবায় ৫০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে।
বিদেশে চিকিৎসাসেবায়ও বিশেষ সুবিধা
পর্যটন মেলায় শুধু অবকাশযাপন নয়, বিদেশে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ সম্পর্কেও তথ্য দিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকক হসপিটালের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. মেহেনাজ তাবাসসুম বলেন, তাঁদের হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। বয়সভিত্তিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেবায় মেলা উপলক্ষে বিশেষ অফার দেওয়া হচ্ছে।
চারটি বিষয়ভিত্তিক প্রদর্শনী হলে বিমান সংস্থা, হোটেল, ট্যুর অপারেটরসহ পর্যটন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের পণ্য ও সেবা তুলে ধরছে। আয়োজকদের আশা, এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে, বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং পর্যটন খাতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
