বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মরহুমের সহযোদ্ধা ও অসংখ্য গুণগ্রাহী অংশ নেন।
জানাজার আগে মরহুমের সংক্ষিপ্ত জীবন ও রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে বক্তব্য দেওয়া হয়। পরে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পরিবার ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবীণ এই নেতার জানাজা ও দাফনের কর্মসূচি তিন ধাপে সম্পন্ন হচ্ছে। প্রথম জানাজা বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুপুর দেড়টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
সবশেষে বিকেল ৩টায় শ্যামপুর-কদমতলী এলাকার ঐতিহাসিক লাল মসজিদ প্রাঙ্গণে তৃতীয় জানাজা শেষে জুরাইন কবরস্থানে তাঁর বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিএনপির এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।
সালাহউদ্দিন আহমেদ ১৯৫৪ সালের ১ মে ঢাকার কদমতলী পশ্চিম, শ্যামপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম আবদুল ব্যারেক সর্দার।
তিনি ধোলাইপাড় উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে ব্যবসা ও প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি ‘দৈনিক দেশ জনতা’ পত্রিকার মালিক ও সম্পাদক ছিলেন।
বিশিষ্ট সমাজসেবক সালাহউদ্দিন আহমেদ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পঞ্চম জাতীয় সংসদে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।
২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ওই সংসদে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। রাজধানীর শ্যামপুর-কদমতলী এলাকায় তিনি বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
