দীর্ঘ ৮ মাস গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ থাকার পর ফের উৎপাদনে ফিরেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইউরিয়া উৎপানকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৩টা ১১ মিনিটের দিকে সার উৎপাদন শুরু হয় বলে জানিয়েছেন যমুনা সার কারখানার বিভাগীর প্রধান মো. ফজলুল হক।
সার কারখানা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প সংস্থা (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন কেপিআই-১ মানসম্পন্ন যমুনা সার কারখানাটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করে আসছিল। কারখানার নিরবিচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪২ থেকে ৪৫ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু গ্যাসের চাপ স্বল্পতা ও বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন হ্রাস পেয়ে নেমে আসে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টনে। উৎপাদনে থাকা অবস্থায় উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলাসহ জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল জেলায় ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে সার সরবরাহ করে থাকে যমুনা সার কারখানা।
আরও জানা যায়, বিগত ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি গ্যাসের চাপ স্বল্পতার কারণে কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু কারিগরি নানা ত্রুটি ও গ্যাস সংকটে উৎপাদনে থাকা অবস্থায় মাঝে মধ্যেই বন্ধ রাখা হত সার উৎপাদন।
সর্বশেষ চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংকটের কারণে আবারও বন্ধ হয়ে যায় কারখানাটি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে গ্যাস সংযোগ পায় যমুনা সার কারখানা। তারপর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে মঙ্গলবার রাত ৩টা ১১ মিনিটের দিকে কারখানাটিতে আবারও সার উৎপদন শুরু হয়।
এ বিষয়ে কারখানার উৎপাদনে বিভাগীর প্রধান মো. ফজলুল হক জানান, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ যমুনা সার কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তবে গ্যাস সরবরাহ থাকায় মঙ্গলবার রাত থেকে ফের উৎপাদন শুরু হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সার সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।
