সোমালিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বায়দোয়ায় নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষে কয়েকজন শিশু নিহত ও আহত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ক্ষুধা ও নানা সংকটে থাকা পরিবারগুলোর ওপর এই সহিংসতা আরও ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। সংঘর্ষে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এ তথ্য জানিয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অঞ্চলটির সবচেয়ে বড় শহর বায়দোয়ায় সরকারি বাহিনী ও মার্চে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক আঞ্চলিক প্রেসিডেন্টের অনুগত যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। চলতি সপ্তাহের সোমবার স্থানীয় হাজারো যোদ্ধা শহরে প্রবেশের পর নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
ইউনিসেফ বলেছে, ‘শিশুরাই আবারও সহিংসতার সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করছে।’ সংস্থাটি সব পক্ষকে শিশুদের সুরক্ষা, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিরাপদ রাখা এবং মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
দশকের পর দশক ধরে সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বিঘ্ন, খরা ও বন্যার মতো জলবায়ুজনিত দুর্যোগে সোমালিয়ার খাদ্যনিরাপত্তা সংকট তীব্র হয়েছে।
জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর হিসাবে, দেশটিতে প্রায় ২০ লাখ শিশু তীব্র বা গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগছে। শুধু বায়দোয়াতেই ২৬ হাজার মানুষ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিপূর্ণ ‘ক্যাটাস্ট্রফিক’ খাদ্যসংকটে রয়েছে।
সংঘাত ও দারিদ্র্যের কারণে অনেক পরিবার দিনে একবার খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছে। হাও নামের এক নারী জানান, গোলার আঘাতে তার বাবা এবং পরে সংঘর্ষে ভাই নিহত হন। এরপর মেয়েকে নিয়ে তিনি মোগাদিশুতে পালিয়ে যান। তার মেয়েটিও অপুষ্টিতে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এদিকে অর্থায়ন সংকটে মানবিক সহায়তাও কমে গেছে। কয়েক বছর আগে মাসে ৪০ লাখের বেশি মানুষকে সহায়তা দেওয়া হলেও বর্তমানে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) মাত্র ৬ লাখ ৭০ হাজারের কিছু বেশি মানুষকে সহায়তা দিতে পারছে।
