PRB Post

১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২০ PM • জাতীয়

শৃঙ্খলা, পেশাদারত্ব ও দেশপ্রেমই সশস্ত্র বাহিনীর প্রকৃত শক্তি: প্রধানমন্ত্রী

PRB Post

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১২:২০ PM • 3 মিনিট পড়া

অনলাইন ডেস্ক

শৃঙ্খলা, পেশাদারত্ব ও দেশপ্রেমই সশস্ত্র বাহিনীর প্রকৃত শক্তি: প্রধানমন্ত্রী

সশস্ত্র বাহিনীর প্রকৃত শক্তি অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলে সীমাবদ্ধ নয় বরং শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভারে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সাভার সেনানিবাসে ৯ম পদাতিক ডিভিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে পেশাগত উৎকর্ষ সাধন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুদ্ধ বা শান্তিকালীন সময়ে বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সেনাবাহিনীর ৭টি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব বলে এমন মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ।

পেশাগত সাফল্যের জন্য ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রাপ্তির গৌরব অর্জন করেছে উল্লেখ করে তিনি তাদের অভিনন্দন জানান।

তারেক রহমান বলেন, ‘এই ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়, বরং এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন প্রতিনিয়তই আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার নতুন শপথ। পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।’

মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা শুরু হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণ করেন। পরে তিনি বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন। পরদিন ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনাকর্মকর্তার এই ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক গৌরবজনক অধ্যায়।

আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এর প্রকৃত শক্তি শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে নিহিত। সর্বোপরি চেইন অব কমান্ড।

তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার স্পেস ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সরকারপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশেই অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

সেনাসদস্যদের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সেনাসদস্যদের জীবনযাপনের মান উন্নয়নে ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়।’

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী সাভার সেনানিবাসে পৌঁছালে তাকে সশস্ত্র সালাম জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন