প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ পরিদর্শন করেছেন, যেখানে একসময় তিনি পড়াশোনা করেছেন। এ সময় তিনি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ দেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত কলেজটি পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাদের দেশ গড়ার কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারের একার পক্ষে দেশকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব নয়। এ জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে তরুণদের নিজেদের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২৪-এর আন্দোলন সফল করেছিলে। এটা কি কোনো একক দল করেছিল? সবাই মিলে করেছিল, তাই না?’
তিনি আরও বলেন, তরুণদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব, সেটি ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, শুধু আন্দোলন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। দেশ পুনর্গঠন ও একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজেও তাদের এগিয়ে আসতে হবে।
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজধানীর বাতাস ক্রমেই দূষিত হয়ে পড়ছে। এর ফলে বিশেষ করে শিশুরা নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
সরকার ইতোমধ্যে দেশকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ করার উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিন্তু তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এসব উদ্যোগ পুরোপুরি সফল করা সম্ভব নয়।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তোমাদের কাছে আমার দুটি আবেদন—দেশকে পরিষ্কার রাখবে এবং বেশি বেশি গাছ লাগাবে। এটা তোমাদেরই দেশ, এর দায়িত্বও তোমাদের।’
এদিন রাজধানীর ১৩টি স্পট সাড়ে চার ঘণ্টায় আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা ছাড়াও মিরপুর-১০ নম্বরের হকারমুক্ত ফুটপাত ঘুরে দেখেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী প্রথমে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এরপর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ও মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে যান।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার ও সরকারি বাংলা কলেজ ঘুরে দেখেন।
পরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে যান তিনি। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা ও বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
এ ছাড়া ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে বিভিন্ন স্থানের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময় দেন। এর আগে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী পরিদর্শন করে হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন তিনি।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ওই চিকিৎসকের কক্ষও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এর বাইরে মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাথ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।
আকস্মিক এই পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
