দেশের মঞ্চনাটকে মামুনুর রশীদের দীর্ঘ ছয় দশকের পথচলা। অভিনয় তো করেছেনই, নাটক লেখা, নির্দেশনা দেওয়া থেকে শুরু করে থিয়েটার সংগঠক হিসেবেও তিনি অনন্য। কিংবদন্তি এই শিল্পীর ক্যারিয়ারে এবার যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়।
নেপালি ভাষার নাটক নির্দেশনা দিলেন মামুনুর রশীদ; তাও আবার নেপালের মঞ্চে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নেপালের কাঠমান্ডুর সর্বনাম থিয়েটারে ‘আয়ো গোর্খালি’ নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে নেপালি নাটকে নির্দেশক মামুনুর রশীদের অভিষেক হলো।
জানা গেছে, আজ মঙ্গলবারও একই ভেন্যুতে (সর্বনাম থিয়েটার মিলনায়তন) হবে নাটকটির দ্বিতীয় প্রদর্শনী। এতে অভিনয় করছেন নেপাল, আয়ারল্যান্ড ও হংকংয়ের শিল্পীরা।

‘আয়ো গোর্খালি’ নাটকটি লিখেছেন মক চিউ ইয়ু। তার সঙ্গে মামুনুর রশীদের পরিচয় প্রায় চার দশকের। গোর্খাদের জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে দেড় দশক ধরে নাটক লেখার পরিকল্পনা করছিলেন মক চিউ ইয়ু। এ নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করেছেন মামুনুর রশীদের সঙ্গে। এ বছর শেষ হয় নাটক রচনা; অতঃপর মামুনুর রশীদকে তারা আমন্ত্রণ জানান নির্দেশনার জন্য।
নেপালি ভাষায় দক্ষ নন মামুনুর রশীদ। ফলে কাজটি তার জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং ছিল, তেমনই ছিল উপভোগ্য। নতুন নতুন নানা বিষয় শিখতে পারছেন। প্রথম প্রদর্শনীতে দর্শকের দারুণ সাড়া পেয়েছেন বলেও জানান এ কিংবদন্তি।
নাটকটির মূল বিষয়বস্তু বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও বিশ্বজুড়ে পরিচিত নেপালের গোর্খা সেনাদের জীবনসংগ্রাম। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা ও আনুগত্যের পরও গোর্খা যোদ্ধারা কীভাবে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় এবং ব্রিটিশ সেনাদের তুলনায় বৈষম্যের শিকার হয়—সেই বাস্তবতাই উঠে এসেছে এই গল্পে।
