উত্তাল সমুদ্রে একটি ফেরি ডুবে যাওয়ার পর শতাধিক নিখোঁজ যাত্রীর সন্ধানে সোমবার ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। জীবিতদের উদ্ধারে বিমান, নৌযান ও ডুবুরি মোতায়েন করা হয়েছে বলে দেশটির শীর্ষ উদ্ধার কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘ভিরগো ট্রান্সপোর্ট ৮’ ফেরিটিতে ২১৩ জন যাত্রী ও ৩০ জন ক্রু ছিলেন। পূর্ব জাভার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সুরাবায়া থেকে যাত্রা শুরুর পর রোববার ভোরে ফেরিটি পরিচালনাকারী কোম্পানির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ সিয়াফি সোমবার জানান, ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আরো ১২৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগের দিন অন্তত ১০৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি জানান, উদ্ধার অভিযানে পাঁচটি বিমান ও ১৭টি নৌযান মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজও রয়েছে। ডুবে যাওয়া ফেরিটিকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হবে।
সিয়াফি বলেন, ‘ভাসমান নিখোঁজদের খুঁজে বের করাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ছয়টি এলাকায় ভাগ করে আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উদ্ধার অভিযান চালাব।’
তিনি বলেন, ‘আশা করছি, আমরা নিখোঁজদের নিরাপদ অবস্থায় খুঁজে পাব।’
তিনি আরো জানান, উদ্ধারকারীরা ডুবে যাওয়া ফেরিটির অবস্থান শনাক্ত করেছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে ফেরিটির ভেতরে ও আশপাশে ডুবুরি ও পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোন মোতায়েন করা হবে।
পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ফেরিটিতে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল না। বরং সর্বোচ্চ ৫০০ জন ধারণক্ষমতার তুলনায় ফেরিটিতে যাত্রী ছিল কম।
১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় নৌপথে যাতায়াত ও পর্যটনের জন্য নৌযানের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে। দেশটিতে প্রায়ই নৌ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অনিশ্চিত আবহাওয়া এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
গত সপ্তাহে বানতেন প্রদেশের আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির কাছে আটজনকে বহনকারী একটি স্পিডবোট নিখোঁজ হয়। তাদের মধ্যে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থায় কর্মরত পাঁচজন সাংবাদিক ছিলেন। তাদের সন্ধানে এখনো অভিযান চলছে।
সূত্র : বাসস
