হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটিকে অচল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ওমান উপসাগর থেকে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতিতে এ হামলার ঘটনা ঘটল। গত জুলাইয়ে ১৩ দিনের উত্তেজনার পর হামলা অনেকটা বন্ধ ছিল। এর আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও পরবর্তী সময়ে তা ভেস্তে যায়।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম তদারককারী সংস্থা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার পানামার পতাকাবাহী ‘ভেলা নোভা’ নামের কার্গো জাহাজটিতে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
সেন্টকমের দাবি, জাহাজটি ওমান উপসাগর অতিক্রম করে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল এবং এভাবে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের চেষ্টা করছিল। জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজটি অচল হয়ে পড়ে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নাবিকেরা তাদের দেওয়া একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিলেন।
তবে হামলায় কোনো নাবিক আহত হয়েছেন কি না, তা জানানো হয়নি।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ চলাকালে মার্কিন বাহিনী এ পর্যন্ত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করেছে এবং দুটি জাহাজ জব্দ করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত আবারও শুরু হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করেছে। একই সময়ে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। গত জুনের সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে এই দুটি শর্তই প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
ওই সমঝোতার মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘস্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা।
এদিকে, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর জাহাজে হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
