PRB Post

৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২২ PM • সারাদেশ

গ্রামবাসীর চাঁদায় কেনা হলো খেলার মাঠের জমি, গ্রামজুড়ে উৎসব

PRB Post

৩০ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৬:২২ PM • 3 মিনিট পড়া

অনলাইন ডেস্ক

গ্রামবাসীর চাঁদায় কেনা হলো খেলার মাঠের জমি, গ্রামজুড়ে উৎসব

 

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে গ্রামবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে। ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে সবার কাছ থেকে চাঁদা তুলে কেনা হয়েছে ৬০ শতাংশ জমি। অবশেষে নিজেদের খেলার মাঠের জমি বুঝে পেয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন গ্রামবাসী।

গ্রামটিতে সাত শতাধিক পরিবারের বসবাস। জনসংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের বেশি হলেও ছিল না কোনো নির্দিষ্ট খেলার মাঠ। ফলে ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে খেলাধুলা করলেও নতুন করে ফসলের আবাদ শুরু হলে বন্ধ হয়ে যেত শিশু-কিশোরদের খেলা।

দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেন গ্রামের সন্তান এস এম ইকবাল মাহমুদ ও ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলম। কয়েক মাস আগে তাদের আলোচনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মাঠের জন্য জমি কেনার পরিকল্পনা। পরে গ্রামের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

গত ৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে গ্রামবাসীকে নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সবাই জমি কেনার পক্ষে মত দেন এবং নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

উদ্যোক্তারা জানান, গ্রামের কেউ দিয়েছেন ২০০ টাকা, কেউ ৫০০ বা এক হাজার টাকা। আবার সামর্থ্য অনুযায়ী কেউ দুই হাজার, পাঁচ হাজার কিংবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা করেছেন। ইকবাল মাহমুদ, খোরশেদ আলমসহ গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দিয়ে উদ্যোগটি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন।

সবার দেওয়া অর্থে গ্রামের ইকবাল হোসেন সুজনের কাছ থেকে ৬০ শতাংশ জমি কেনা হয়। প্রতি শতাংশ জমির দাম নির্ধারণ করা হয় ৫২ হাজার টাকা। জমির মালিকও এক শতাংশ জমি দান করেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে জমিটি গ্রামবাসীর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এ উপলক্ষে সকাল থেকেই গ্রামে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে জমিতে জড়ো হন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি গ্রামের প্রবীণদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন তরুণেরা। দিনভর চলে আনন্দ-উৎসব।

উদ্যোক্তা খোরশেদ আলম বলেন, আপাতত ৬০ শতাংশ জমি কেনা হয়েছে। এর পাশে আরও ৬০ শতাংশ জমি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। মোট ১২০ শতাংশ জমি পাওয়া গেলে সেখানে একটি ভালো মানের খেলার মাঠ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এই মাঠকে কেন্দ্র করে গ্রামের ক্রীড়াচর্চা এগিয়ে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য।

নতুন মাঠ পেয়ে উচ্ছ্বসিত গ্রামের শিশু-কিশোরেরাও। কিশোররা জানায়, আগে ধান কাটার পর খেতে খেলাধুলা করা গেলেও ফসলের আবাদ শুরু হলে আর খেলার সুযোগ থাকত না। এখন সারা বছর খেলার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তারা আনন্দিত।

গ্রামের প্রবীণ আব্দুল মান্নান ব্যাপারী বলেন, একটি খেলার মাঠের জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেছেন। অবশেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ায় গ্রামের সবাই আনন্দিত।

বাবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও মোনালিসা উইমেন্স স্পোর্টস একাডেমির পরিচালক মোনালিসা মুন্নি বলেন, গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি খেলার মাঠ। সম্মিলিত উদ্যোগে সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়া বড় অর্জন।

অন্যদিকে সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সহায়তা ছাড়াই গ্রামবাসীর নিজেদের অর্থায়নে জমি কেনার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা। তার মতে, বাবুপুরের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য গ্রামের মানুষকেও নিজেদের প্রয়োজনে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।

আরও পড়ুন