PRB Post

১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৭ PMআন্তর্জাতিক

টাইফুন ‘ডলফিনের’ আঘাতে বিপর্যস্ত চীন

PRB Post

১০ আগস্ট, ২০২৬ এ ৬:১৭ PM2 মিনিট পড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

টাইফুন ‘ডলফিনের’ আঘাতে বিপর্যস্ত চীন

শক্তিশালী টাইফুন ডলফিনের আঘাতে প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ে চীনের পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি প্রদেশ প্লাবিত হয়েছে। শুধু সাংহাইয়ের দুটি প্রধান বিমানবন্দর থেকেই প্রায় ৯৫০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যায় ঝেজিয়াং প্রদেশ ঘণ্টায় ১৫১ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে ডলফিন, এটিকে চলতি বছরে চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার আগে এই ঝড়টি প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে। এর বিশাল মেঘমালার কারণে এর স্থায়িত্ব সাধারণ টাইফুনের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি ছিল। এরপর কিছুটা দুর্বল হয়ে এটি একটি ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হয়।

তবে চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনএমসি) সতর্ক করেছে, এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চীনের মূল ভূখণ্ডের ৬টি প্রদেশ এবং রাজধানী বেইজিংয়ে রেকর্ড পরিমাণ ভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা এবং পাহাড়ি ভূমিধস ঘটাতে পারে।

এদিকে ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল বৃষ্টিতে সাংহাইয়ের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রসহ শহরের বেশ কিছু এলাকা হাঁটু-সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সাংহাইয়ের হংকিয়াও এবং পুডং বিমানবন্দরে মোট ৯৪৩টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ, যা সক্ষমতার প্রায় ৪০ শতাংশ।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, টাইফুনের প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি। ফলে কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হতে পারে।

ফ্লাইট বাতিলের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় সব ধরনের ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বহু মহাসড়ক ও ট্রেন লাইন সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।

সিসিটিভি আরও জানিয়েছে, সাংহাই ও তার পার্শ্ববর্তী ঝেজিয়াং এবং ফুজিয়ান প্রদেশ থেকে ইতোমধ্যে ১০ লক্ষাধিক বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সাংহাইয়ের বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সী হাউ লিনা রয়টার্সকে বলেন, ‘গত রাতে প্রায় সারারাত বৃষ্টি হয়েছে। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি পুরো এলাকা জলমগ্ন, আর রাস্তাঘাট মারাত্মকভাবে ডুবে গেছে। আমি ১০ বছর ধরে সাংহাইতে বাস করছি, এবং এই প্রথমবার একটি টাইফুনের কারণে এমন অসুবিধার সম্মুখীন হলাম। এই প্রথমবার আমি এত ব্যাপক বন্যার সম্মুখীন হলাম।’

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চরম আবহাওয়া ও বেশকয়েকটি ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হয়েছে চীন। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে আঘাত হানে শক্তিশালী টাইফুন নউল। এছাড়াও গত জুলাই মাসে ক্রান্তীয় ঝড় ‘মেইসাক’ দেশটির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল, যার মধ্যে গুয়াংসি অঞ্চলের ভয়াবহ বন্যায় ৩৯ জনের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন