সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সদস্য মোংলায় কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তারা নিজেদের ব্যবহৃত ১৩টি অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জাম কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মোংলায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের এ ঘটনা ঘটে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা (ঢাকা) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড হেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এমথ্রী গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার ও ২টি এয়ার গান জমা নেওয়া হয়।
এ ছাড়া তারা ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তলের গুলি, ৫ রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গুলি, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, ৪টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২টি এয়ারগান ম্যাগাজিন ও চার্জারসহ ৬টি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দিয়েছেন।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন—জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬)। তারা খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা।
এ ছাড়া সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) এবং বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা আজিজুর রহমান (৪৫) আত্মসমর্পণ করেছেন।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।
এর আগে বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর মোট ৩৭ জন সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সুন্দরবনের সব সক্রিয় বনদস্যুকে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, যারা এখনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্দেশনা, সবার সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে কোস্ট গার্ড আশাবাদী।
