PRB Post

৬:৫৭ PM • জাতীয়

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু: প্রতিমন্ত্রী নুর

PRB Post

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ৬:৫৭ PM • 3 মিনিট পড়া

অনলাইন ডেস্ক

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু: প্রতিমন্ত্রী নুর

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। প্রাথমিক আলোচনা অনুযায়ী সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে কর্মী যেতে আনুমানিক ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। পরবর্তীতে বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ব্যয়ও অংশীজনদের সঙ্গে বসে সুনির্দিষ্টভাবে বেঁধে দেওয়া হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত অভিবাসন সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই প্রত্যাশা ও প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

নভেম্বরের শুরুতেই মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া দুই থেকে চার দিনের মধ্যে সম্পন্ন করে নভেম্বরের ১ তারিখ বা প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই প্রথম ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হতে পারে। তিনি জানান, উভয় দেশের আলোচনার ভিত্তিতে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এই তালিকা চূড়ান্ত করে প্রকাশ করার নিশ্চয়তা দিয়েছে, যা দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাবে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুই সরকারের উচ্চপর্যায়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। কিছু কারিগরি কাজ এখনো বাকি থাকলেও নভেম্বর থেকেই কর্মী পাঠানোর মূল কার্যক্রম চালুর ব্যাপারে ঢাকা আশাবাদী। বিশেষ করে দেশটির অনুমোদিত ৩৩৮টি বড় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রাপ্তিকে ঢাকার জন্য একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে নিয়োগকারী বিভিন্ন কোম্পানি তাদের চাহিদাপত্র (ডিমান্ড লেটার) জমা দিতে শুরু করেছে। মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম ‘এফডব্লিউসিএমএস’ এবং কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে এসব চাহিদাপত্র জমা নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দেন, বাংলাদেশ দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক সত্যায়ন ছাড়া কোনো চাহিদাপত্রই গ্রহণযোগ্য হবে না। অনুমোদিত তালিকার বাইরের কোনো ভুয়া কেন্দ্রে যেন কর্মীরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে প্রতারিত না হন, সে বিষয়েও তিনি সতর্কবার্তা দেন।

অভিবাসন ব্যয় প্রসঙ্গে নুরুল হক জানান, বেসরকারিভাবে বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রচারিত খরচের গুজবে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না; সরকারই চূড়ান্তভাবে এই ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করবে। প্রাথমিকভাবে বোয়েসেলের মাধ্যমে ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার কথা ভাবা হলেও বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির খরচও কঠোর নীতিমালার অধীনে বেঁধে দেওয়া হবে এবং তা কঠোরভাবে তদারকি করা হবে।

কর্মীদের বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একেবারে বিনা খরচে বিদেশে যাওয়া সম্ভব নয়। বিমানভাড়া, মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং বোয়েসেলের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সেবা ফি দিতে হবে। তবে লক্ষ্য হচ্ছে, কর্মীরা যাতে ন্যূনতম খরচে যেতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, প্রথমে সরকারি উদ্যোগে বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হবে। এরপর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্ধারিত খরচের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এর আগে ব্যক্তিগতভাবে প্রচারিত খরচের তথ্যের ভিত্তিতে কর্মীদের সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন