‘খোদা আমাদের খাবার দাও’—অনাহারে থাকা শেরপুরের এক বৃদ্ধ দম্পতির এমন হৃদয়বিদারক আকুতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অবশেষে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অক্ষমতা ও বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তারা।
শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া চরপাড়া গ্রামের ৮৬ বছর বয়সী সাজু শেখ ও ৮০ বছর বয়সী নুরজাহানের বিয়ে হয়েছিল প্রায় ৭০ বছর আগে। আর্থিক অনটন ও বার্ধক্যের কারণে জীবন তাদের কাছে এক কঠিন সংগ্রামে পরিণত হয়েছিল। প্রায় পাঁচ বছর আগে পড়ে গিয়ে নুরজাহানের কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই তিনি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসআমিনের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওই দম্পতিকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান এবং তাদের চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এছাড়া তাদের ঘরবাড়ির বেহাল দশা বিবেচনা করে একটি নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই দম্পতিকে দেখতে যান। তিনি অসুস্থ বৃদ্ধার চলাচলের জন্য একটি হুইলচেয়ার উপহার দেন এবং তাদের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ ও খাদ্য সহায়তার আশ্বাস দেন। এর আগে শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হযরত আলী তাদের বাড়িতে গিয়ে খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেন।
এদিকে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের একটি প্রতিনিধি দল, ইসলামী ছাত্রশিবির, জামায়াতে ইসলামী এবং ‘রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’-এর মতো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও হাসপাতালে ও তাদের বাড়িতে গিয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছে এবং খাদ্যসামগ্রী প্রদান করছে।
তিন ছেলে ও তিন মেয়ের বাবা-মা হলেও বার্ধক্যে এসে তারা চরম নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন। এক ছেলে ঢাকায় রিকশা চালান এবং অপর এক ছেলে দিনমজুরি করে কোনোমতে নিজের সংসার চালিয়ে সাধ্যমতো তাদের দেখভালের চেষ্টা করতেন। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা ও ভরণপোষণ চালানো তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
এত অভাব ও কষ্টের মাঝেও স্বামী-স্ত্রীর অটুট ভালোবাসা সবার নজর কেড়েছে। কানে কম শোনা এবং বয়সের ভারে ন্যুব্জ সাজু শেখ প্রতিদিন সকালে শয্যাশায়ী স্ত্রীকে নিজ হাতে কোলে করে ঘরের বাইরে উঠানে এনে শুইয়ে দিতেন এবং দিনরাত পরম যত্নে তার সেবা করতেন। স্থানীয় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাদের কান্নাবিজড়িত আর্তনাদ ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দিলে তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং প্রশাসনের সহায়তায় তাদের জীবনে স্বস্তির ছোঁয়া লাগে।
