PRB Post

২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৯ AMজাতীয়

কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

PRB Post

২৭ আগস্ট, ২০২৬ এ ১১:৩৯ AM2 মিনিট পড়া

অনলাইন ডেস্ক

কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে, বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এই অনন্য প্রতিভা। দিনটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কবিকে স্মরণ করছে দেশবাসী।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাতের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করে বেড়ে ওঠা নজরুল পরবর্তী সময়ে সাহিত্য, সংগীত ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রাখেন।

মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটকের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে নতুন মাত্রা দেন। তার লেখায় অন্যায়, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের পাশাপাশি প্রেম, মানবতা, সাম্য ও জাগরণের বার্তা উঠে এসেছে।

‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে খ্যাত নজরুলের সৃষ্টিকর্মের পরিধি ছিল ব্যাপক। কবিতা, সংগীত, উপন্যাস, গল্প, নাটক ও প্রবন্ধের পাশাপাশি তিনি সাংবাদিক, গায়ক ও অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তার সৃষ্ট অসংখ্য গান ও রাগ-রাগিণী আজও বাংলা সংগীতের অমূল্য সম্পদ।

অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তার সৃষ্টি বাঙালিকে সাহস ও প্রেরণা দিয়েছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে তার সাহিত্য ও সংগীত জাতীয় জীবনে সাম্য ও সম্প্রীতির চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারকে ঢাকায় আনা হয়। তাকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামের অবস্থান দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনায় অনন্য। তার বিদ্রোহ, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার বাণী আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

আরও পড়ুন