PRB Post

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৪ PM • আন্তর্জাতিক

কড়া সিদ্ধান্ত নিলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অবিক্রিত কাপড় ধ্বংস করা যাবে না

PRB Post

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৩:৩৪ PM • 2 মিনিট পড়া

অনলাইন ডেস্ক

কড়া সিদ্ধান্ত নিলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অবিক্রিত কাপড় ধ্বংস করা যাবে না

অবিক্রিত পোশাক, পোশাকের আনুষঙ্গিক পণ্য ও জুতা ধ্বংসের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। নতুন এই নিয়মের আওতায় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিক্রিত পণ্য পুড়িয়ে, ফেলে বা অন্যভাবে নষ্ট করার পরিবর্তে বিক্রি, দান, মেরামত, পুনর্ব্যবহার বা পুনরায় বাজারজাত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের টেকসই পণ্যের পরিবেশবান্ধব নকশা বিধিমালার আওতায় গত ১৯ জুলাই থেকে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। ২০৩০ সালের ১৯ জুলাই থেকে একই নিয়ম মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত।

ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে প্রতিবছর বাজারে আসা মোট বস্ত্রপণ্যের প্রায় ৪ থেকে ৯ শতাংশ ব্যবহারের আগেই ধ্বংস করা হয়। এর পরিমাণ বছরে আনুমানিক ২ লাখ ৬৪ হাজার থেকে ৫ লাখ ৯৪ হাজার টন। এসব পণ্য ধ্বংসের ফলে কাঁচামাল, পানি, জ্বালানি ও শ্রমের মতো বিপুল সম্পদ নষ্ট হয় এবং পরিবেশের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, অবিক্রিত পণ্য ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথমে বিক্রির সুযোগ খুঁজতে হবে। প্রয়োজন হলে মূল্যছাড় দিয়ে বিক্রি, বিকল্প বাজারে সরবরাহ, দাতব্য প্রতিষ্ঠান বা সামাজিক সংগঠনে দান এবং মেরামত বা পুনঃউৎপাদনের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে।

তবে সব ক্ষেত্রে ধ্বংসের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নেই। পণ্য অনিরাপদ বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে, নকল বা মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনকারী হলে কিংবা দাতব্য প্রতিষ্ঠান পণ্য গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে নির্দিষ্ট শর্তে তা ধ্বংস করা যেতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে।

নিয়ম ভঙ্গ হচ্ছে কি না তা জাতীয় কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ করবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিক্রিত পণ্য ধ্বংসের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে প্রয়োজনে তা পরিদর্শন করা যায়। বিধিমালা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরিমানাসহ ব্যবস্থা নিতে পারবে।

ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বস্ত্র খাতে অপচয় কমানো, পণ্যের পুনর্ব্যবহার বাড়ানো এবং উৎপাদন ও ভোগব্যবস্থাকে আরও পরিবেশবান্ধব ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাওয়া।

আরও পড়ুন