অপরাধ, জালিয়াতি ও অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তিন লাখের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটির আগের যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় দ্রুতগতিতে এত বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, দেশের সীমান্ত ও জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দপ্তরটি।
পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অপরাধ, জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, জালিয়াতি ও ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে বেশির ভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আর ভিসা পাওয়ার যোগ্য নন—এমন তথ্য পাওয়ার পরও তাদের ভিসা বাতিল করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নামে পরিচিত এ ধরনের ভ্রমণে জড়িত থাকা বা এতে সহায়তার অভিযোগে চার হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ভিসার ২৫ শতাংশের ক্ষেত্রে হামলা ও এ ধরনের অপরাধের অভিযোগ ছিল। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে বাতিল হয়েছে ২২ শতাংশ ভিসা। এ ছাড়া চুরির ঘটনায় ৭ শতাংশ এবং মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার বা বিতরণের কারণে আরও ৭ শতাংশ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাতিল হওয়া ভিসার সংখ্যা এক লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়। জানুয়ারিতেও এক লাখের বেশি ভিসা বাতিলের কথা জানিয়েছিল দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। সে সময় ওই সংখ্যাকে রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে তা বেড়ে তিন লাখ ছাড়িয়ে যায়।
এদিকে, ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়াও আরও কঠোর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তা তল্লাশিও বাড়ানো হয়েছে।
তবে প্রশাসনের এ উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের আশঙ্কা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়লে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে অভিবাসীদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি এবং তাঁদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা
