PRB Post

৫:২৭ PM • খেলাধুলা

এশিয়া কাপের সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরল আর্চাররা, এবার লক্ষ্য বিশ্বমঞ্চ

PRB Post

১ নভেম্বর, ২০২৬ এ ৫:২৭ PM • 3 মিনিট পড়া

স্পোর্টস ডেস্ক

এশিয়া কাপের সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরল আর্চাররা, এবার লক্ষ্য বিশ্বমঞ্চ

আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ আরচ্যারী দল। ইরাকের সুলাইমানিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ওয়ার্ল্ড র‌্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় লেগে স্বর্ণপদকসহ একাধিক পদক জিতেছে লাল-সবুজের আর্চাররা। বিশেষ করে রিকার্ভ পুরুষ দলীয় ইভেন্টে কাজাখস্তানকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের স্বর্ণজয় নতুন ইতিহাস গড়েছে। ব্যক্তিগত ও দলীয় ইভেন্টে সাফল্যের পাশাপাশি তরুণদের অভিজ্ঞতা অর্জনকেও ভবিষ্যতের বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (১ নভেম্বর) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে ফেরা আর্চারদের স্বাগত জানান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ মাহফুজুল আলম খান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর রায়হান ও যুগ্ম সম্পাদক রুবেল হোসেন।

টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের জার্সিতে ব্যক্তিগত ইভেন্টে প্রথম আন্তর্জাতিক স্বর্ণ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন বন্যা আক্তার। নারী কম্পাউন্ড ব্যক্তিগত ফাইনালে কাজাখস্তানের মিলানা বুরলেভাকে ১৪৫-১৪৩ স্কোরে হারান তিনি। দলীয় ইভেন্টেও স্বর্ণ জেতে বাংলাদেশের মেয়েরা। অন্যদিকে রিকার্ভ পুরুষ দলের আব্দুর রহমান আলিফ, সাগর ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল মোহাম্মদ রাফি কাজাখস্তানকে ৬-২ সেট পয়েন্টে হারিয়ে স্বর্ণ নিশ্চিত করেন। ব্যক্তিগত ইভেন্টে কুলসুম আক্তার মনি জেতেন ব্রোঞ্জ।

এয়ারপোর্টে উচ্ছ্বসিত বন্যা জানান “এটা আমার প্রথম ব্যক্তিগত এশিয়া কাপের স্বর্ণপদক। এই সাফল্য আগামীতে বিশ্বকাপ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা অলিম্পিকের মতো বড় আসরে ভালো করার অনুপ্রেরণা দেবে। এখানকার অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রতিযোগিতায় কাজে লাগাতে চাই।”

রিকার্ভ পুরুষ দলের স্বর্ণজয়কে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফসল হিসেবে দেখছেন সাগর ইসলাম। সামনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপেও এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান তারা। পাশাপাশি  দেশের হয়ে বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকে পদক জয়ের স্বপ্নও দেখছেন আর্চাররা। তবে প্রতিযোগিতায় প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা এবং ব্যক্তিগত ইভেন্টে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার আক্ষেপও রয়েছে আর্চারদের।

টিম ম্যানেজার তাজুল হোসেন বাপ্পী বলেন, ‘‘আরচ্যারীর মতো মানসিক চাপনির্ভর খেলায় খেলোয়াড়দের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ফেডারেশন।” প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়লে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও ভালো ফল সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

দলের প্রধান কোচ ফ্রেডেরিক মার্টিনের মূল্যায়ন, এবারের দলে প্রায় ৮০ শতাংশই ছিলেন তরুণ আর্চার। বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-২১ ও অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের সামনে রেখে এই প্রতিযোগিতাকে ভবিষ্যতের প্রস্তুতি হিসেবে নিয়েছেন তারা। বড় পরিসরে ভিন্ন পরিবেশে ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা আগামী ডিসেম্বরে যুব এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে কাজে আসবে বলে মনে করেন কোচ।

ক্রীড়াবিদদের জন্য সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ মাহফুজুল আলম খান জানান, প্রায় ৩০০ খেলোয়াড়কে মাসিক এক লাখ টাকা করে ক্রীড়া ভাতা দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণের মাধ্যমে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের বিকেএসপিতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের দায়িত্বও নিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি ফেডারেশনগুলোর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সূচি অনুযায়ী বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নয়, পদক অর্জন।

আর্চারদের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ বিশ্বকাপ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিক। এশিয়া কাপের সাফল্য সেই স্বপ্নের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে কিছুটা হলেও সহযোগিতা করবে।

আরও পড়ুন