PRB Post

৭:১৪ PM • জাতীয়

বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র ও রফতানির প্রবেশদ্বার হতে আগ্রহী বাংলাদেশ

PRB Post

৩ নভেম্বর, ২০২৬ এ ৭:১৪ PM • 2 মিনিট পড়া

অনলাইন ডেস্ক

বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র ও রফতানির প্রবেশদ্বার হতে আগ্রহী বাংলাদেশ

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ২৯তম টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনের ফাঁকে কূটনীতিবিদদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের বৈঠক

বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র এবং রফতানির প্রবেশদ্বার হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য অর্জনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার সঙ্গে সমন্বিত উৎপাদনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউট (এসডিপিআই) আয়োজিত ২৯তম টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সহযোগিতা এ অঞ্চলের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাকে সংযুক্ত করে সমন্বিত উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর এমন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা উচিত, যা অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা তৈরি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে ব্যয় বর্তমান জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, বৈশ্বিক উৎপাদন কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে স্বাভাবিক উৎপাদন ধারায় ফিরতে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার এ উদ্যোগ জনবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট এবং বিগত সরকারের শাসনামলে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট ও দারিদ্র্য থেকে উত্তরণে এসব উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাকিস্তান সরকারের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী অধ্যাপক আহসান ইকবাল। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে প্রায় ৫০টি প্যানেল ও প্লেনারি অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের ৩০০ জনের বেশি উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১০০ জনের বেশি নারী রয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে উপদেষ্টা ইসলামাবাদে নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে একটি জামগাছের চারা রোপণ করেন।

এ ছাড়া পাকিস্তানের অর্থ ও রাজস্ব বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব, পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী অধ্যাপক আহসান ইকবাল, জ্বালানি বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও উৎপাদন বিষয়ক উপদেষ্টা হারুন আখতার খানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বৈঠকগুলোতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

আরও পড়ুন