PRB Post

১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ AMঅন্যান্য

সুন্দরবনের কাছে বাড়ছে পর্যটন সুবিধা, রিসোর্টের পাশাপাশি চালু নানা ক্রুজ

PRB Post

১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১১:৫৭ AM4 মিনিট পড়া
আপডেট: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১২:০২ PM

স্টাফ রিপোর্টার

সুন্দরবনের কাছে বাড়ছে পর্যটন সুবিধা, রিসোর্টের পাশাপাশি চালু নানা ক্রুজ

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ঘিরে পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর আশপাশে গড়ে উঠছে নানা ধরনের ইকো রিসোর্ট। পাশাপাশি খুলনা, মোংলা ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন প্রবেশপথ থেকে পর্যটকদের জন্য চালু রয়েছে একদিনের বোট ট্রিপ থেকে শুরু করে দুই রাত তিন দিনের বিলাসবহুল ক্রুজ প্যাকেজ।

সুন্দরবন ভ্রমণের ক্ষেত্রে খুলনা ও মোংলা অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ। বিশেষ করে খুলনার ৪ নম্বর বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চঘাট এলাকা থেকে বিভিন্ন পর্যটন প্রতিষ্ঠান সুন্দরবনের উদ্দেশে বড় নৌযান ও ক্রুজ পরিচালনা করে। বাংলাদেশ বন বিভাগের ইকো-ট্যুরিজম প্ল্যাটফর্মে সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য একাধিক নিবন্ধিত অপারেটরের নামও তালিকাভুক্ত রয়েছে।

সুন্দরবনের কাছে যেসব রিসোর্ট

সুন্দরবনের কাছাকাছি থাকার জন্য পর্যটকদের কাছে পশ্চিম ড্যাংমারি, মোংলা ও আশপাশের এলাকার ইকো রিসোর্টগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

পশ্চিম ড্যাংমারিতে রয়েছে Bonobibi Forest Resort Sundarban (বনবিবি ফরেস্ট রিসোর্ট সুন্দরবন)। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পরিবেশের কারণে এটি পর্যটকদের একটি পরিচিত আবাসন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ ছাড়া পশ্চিম ড্যাংমারি এলাকায় রয়েছে Sundori Eco Resort (সুন্দরী ইকো রিসোর্ট)। রিসোর্টটির বিভিন্ন প্যাকেজে মোংলা থেকে শেয়ারিং বোটে যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, ডিঙ্গি নৌকায় সুন্দরবনে রিভার ক্রুজিং এবং করমজল ভ্রমণের মতো সুবিধা রয়েছে।

মোংলা এলাকায় পর্যটকদের জন্য রয়েছে Mangrove Valley, Sundarban Eco Resort (ম্যাংগ্রোভ ভ্যালি, সুন্দরবন ইকো রিসোর্ট)। মোংলা হয়ে সুন্দরবন ভ্রমণের ক্ষেত্রে এটি থাকার একটি বিকল্প হতে পারে।

এ ছাড়া সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় JungleBari Mangrove Resort, Sundarban (জঙ্গলবাড়ি ম্যাংগ্রোভ রিসোর্ট, সুন্দরবন), Iraboti Eco Resort & Research Center Limited (ইরাবতী ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার লিমিটেড), Mangrove Haven Resort (ম্যাংগ্রোভ হ্যাভেন রিসোর্ট) এবং Aranyachhaya Eco Resort (অরণ্যছায়া ইকো রিসোর্ট) সহ আরও কয়েকটি আবাসন রয়েছে।

মোংলায় তুলনামূলক প্রচলিত হোটেলের মধ্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের Hotel Pashur, Bangladesh Parjatan Corporation (হোটেল পশুর, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন)-ও রয়েছে।

কারা বোট ও ক্রুজ পরিচালনা করছে

সুন্দরবনে পর্যটকদের জন্য বোট ও ক্রুজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম নয়। বাংলাদেশ বন বিভাগের ইকো-ট্যুরিজম প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত অপারেটরদের মধ্যে রয়েছে Sundarban Wonders Tourism (সুন্দরবন ওয়ান্ডার্স ট্যুরিজম), M/S Sundarban Tourism (মেসার্স সুন্দরবন ট্যুরিজম), The Royal Tour (দ্য রয়্যাল ট্যুর), Sea Pearl Beach Resort and Spa Ltd. Cruises (সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড ক্রুজ), Grand Holidays (গ্র্যান্ড হলিডেজ), Ever Youth Tourism (এভার ইয়ুথ ট্যুরিজম), Rupantar Ecotourism Ltd. (রূপান্তর ইকোট্যুরিজম লিমিটেড), Holidays Shipping Lines (হলিডেজ শিপিং লাইনস), Popular Tours (পপুলার ট্যুরস) এবং Bonojibi Tours (বনজীবী ট্যুরস) সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া Sundarban Sunrise Tourism (সুন্দরবন সানরাইজ ট্যুরিজম), Vromon Tori Tours and Travels (ভ্রমণ তরী ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস), The Sundarban Tours Khulna (দ্য সুন্দরবন ট্যুরস খুলনা) এবং Marian Sundarban Tour & Travel (মারিয়ান সুন্দরবন ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল) সহ আরও কয়েকটি অপারেটর সরকারি ইকো-ট্যুরিজম প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

Ever Line Cruise (এভার লাইন ক্রুজ)-এর পক্ষ থেকেও খুলনা থেকে তিন দিন দুই রাতের সুন্দরবন ভ্রমণ প্যাকেজ পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি পর্যটকবাহী জাহাজে সুন্দরবন ভ্রমণের সুযোগ দিয়ে থাকে।

বিলাসবহুল ক্রুজে কত খরচ

বিভিন্ন অপারেটরের প্যাকেজে নৌযান, কেবিন, খাবার ও ভ্রমণসূচি অনুযায়ী খরচের পার্থক্য রয়েছে। সরকারি ইকো-ট্যুরিজম প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত একটি তিন দিন দুই রাতের প্যাকেজের মূল্য ১৮ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা এবং অন্য একটি প্যাকেজের মূল্য ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।

বেসরকারি ক্রুজ অপারেটরদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিন দিন দুই রাতের প্যাকেজে হারবারিয়া, কটকা, কচিখালী, দেমেরচর ও করমজলের মতো পর্যটন স্পট অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। কিছু ক্রুজে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, সংযুক্ত বাথরুম, ডাইনিং স্পেস, ওপেন ডেক ও পর্যটকদের জন্য লাইফ জ্যাকেটসহ নিরাপত্তা সরঞ্জামও রয়েছে।

M.V. The Explorer-2 (এমভি দ্য এক্সপ্লোরার-২)-এর মতো বড় ক্রুজ জাহাজের তিন দিন দুই রাতের প্যাকেজও সরকারি ইকো-ট্যুরিজম প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত রয়েছে। সেখানে ৭৫ জন পর্যন্ত যাত্রী ধারণক্ষমতা এবং কেবিনে সংযুক্ত বাথরুম ও ব্যালকনির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

একদিনের বোট ট্রিপও জনপ্রিয়

যারা দীর্ঘ সময় ক্রুজে থাকতে চান না, তারা মোংলা বা সুন্দরবনের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করে ছোট নৌযানে স্বল্প সময়ের ভ্রমণ করতে পারেন। বিভিন্ন রিসোর্টের প্যাকেজে ডিঙ্গি নৌকায় রিভার ক্রুজিং, গ্রাম ভ্রমণ এবং করমজল ভ্রমণের মতো আয়োজন রয়েছে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও মুন্সিগঞ্জ-বুড়িগোয়ালিনী এলাকাও সুন্দরবন ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। এসব এলাকা থেকে স্থানীয় ট্রলার ও ছোট নৌযানে একদিনের সুন্দরবন ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। Marian Sundarban Tour & Travel (মারিয়ান সুন্দরবন ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল) সহ স্থানীয় কয়েকটি অপারেটর এ ধরনের ভ্রমণসেবা দিয়ে থাকে।

তবে সুন্দরবনের মূল বনে প্রবেশের ক্ষেত্রে বন বিভাগের অনুমতি, নির্ধারিত প্রবেশপথ, গাইড এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা অনুসরণ করা জরুরি। পর্যটকদের উচিত যাত্রার আগে অপারেটরটি সরকারি তালিকাভুক্ত কি না এবং প্যাকেজে কোন কোন সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তা যাচাই করে নেওয়া।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুন্দরবনকে ঘিরে রিসোর্ট, স্থানীয় বোট ও বিলাসবহুল ক্রুজের সংখ্যা বাড়ায় পর্যটকদের জন্য বিকল্প বেড়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটন পরিচালনায় নির্ধারিত নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করাও জরুরি।

 

আরও পড়ুন