PRB Post

২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৩ PMখেলাধুলা

কোচদের ‘ধাক্কাধাক্কি’, ৯৯৯-এ কল করে পুলিশ ডাকলেন বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ

PRB Post

২৪ আগস্ট, ২০২৬ এ ২:৪৩ PM4 মিনিট পড়া

অনলাইন ডেস্ক

কোচদের ‘ধাক্কাধাক্কি’, ৯৯৯-এ কল করে পুলিশ ডাকলেন বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ

 

আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে এএফসি অ-২০ টুর্নামেন্টের বাছাই পর্ব শুরু হবে। যুব এশিয়া কাপের মূল পর্বে খেলার লক্ষ্যে ২৭ আগস্ট দেশ ছাড়ার কথা বাংলাদেশ অ-২০ দলের। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের ব্রিটিশ হেড কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর মধ্যে চলছে স্নায়ুযুদ্ধ। দুই জন দুই জনকে এড়িয়ে চলছেন আপাতত। গত বুধবার দুই জনের মধ্যে হঠাৎ টিম হোটেলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই ঘটনার জেরে ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জোন্স হোটেলে পুলিশও ডেকেছিলেন বলে জানতে পেরেছে ঢাকা পোস্ট।

সিনিয়র না হলেও অ-২০ দলও বাংলাদেশ জাতীয় দল। দেশের পতাকা বুকে নিয়ে তারা লড়েন। জাতীয় দলের ক্যাম্পে বা টিম হোটেলে পুলিশের আগমন সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেনি। সহকারী কোচ মিশুর সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির জের ধরে জোন্স ‘৯৯৯’ কল করে পুলিশ ডাকেন। পরবর্তীতে পুলিশ হোটেল হলিডে ইনে উপস্থিত হয়। যদিও এরপর তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে জাতীয় দলের ক্যাম্পে কোচের পুলিশ ডাকার ঘটনা বাংলাদেশের ফুটবলে বিব্রতকরই।

সহকারী কোচ মিশুর সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির জের ধরে জোন্স ‘৯৯৯’ কল করে পুলিশ ডাকেন। পরবর্তীতে পুলিশ হোটেল হলিডে ইনে উপস্থিত হয়। জাতীয় দলের ক্যাম্পে কোচের পুলিশ ডাকার ঘটনা বাংলাদেশের ফুটবলে বিব্রতকরই।
বাংলাদেশ অ-২০ দলের ম্যানেজার ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য সামিদ কাশেম। উদ্ভূত ঘটনার প্রেক্ষিতে তার মন্তব্য,‘আমরা ডেভেলপমেন্ট কমিটি এই বিষয়ে কাজ করছি। আশা করছি দ্রুতই একটি সুন্দর সমাধান আনবো। আমাদের লক্ষ্য ফুটবলারদের সর্বোচ্চ সুবিধা প্রদান করে দেশকে সাফল্য আনা।’ সিনিয়র কিংবা জুনিয়ার যে কোনো জাতীয় দলের ক্যাম্পের সকল বিষয় দেখভালের দায়িত্ব ম্যানেজারের। গত দুই মাসের বেশি সময়ে ম্যানেজার ক্যাম্পে সশরীরে হাতেগোনা কয়েক দিনের বেশি উপস্থিত হতে পারেননি। এ নিয়ে ম্যানেজারের বক্তব্য,‘ঢাকায় থাকলে অবশ্যই প্রতিদিনই যেতাম। ঢাকায় মাঠ ও অন্য ইস্যু রয়েছে। আমাদের ক্যাম্প যশোরের শামসুল হুদা একাডেমীতে হয়েছে সিংহভাগ সময়। সশরীরে কম গেলেও প্রতিনিয়ত আমি যোগাযোগ রেখেছি।’


জেরার্ড জোন্সের কোচিং সনদে ভালো হলেও আচার-আচরণ একেবারেই বিস্ময়কর। কদিন আগে নিজের বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। তার ঘটনায় বিব্রত বাফুফে!

ফুটবলাররা মাঠে খেলেন কিন্তু তাদের বাইরে থেকে নির্দেশনা দেন কোচরা। হেড কোচ ও সহকারী কোচের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে সেটার প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই দলের ওপর পড়ে। শুধু সহকারী কোচ মিশুর সঙ্গে নয় যশোরে শামসুল হুদা একাডেমীতে বিদেশি স্প্যানিশ কোচের সঙ্গেও জেরার্ড জোন্সের দূরত্ব দেখা গিয়েছিল। সেখানে উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের তথ্য, এক পর্যায়ে গোলরক্ষক কোচ ক্যাম্প ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে এখন অবশ্য দুই পক্ষ মানিয়ে চলছেন। দলের সঙ্গে একজন ডাক্তারও থাকেন। ব্রিটিশ কোচের আচরণে সেই ডাক্তার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে যশোর থেকে চলে এসেছেন। অ-২০ জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা একাধিক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় গত বুধবার মিশুর সঙ্গে উত্তেজিত আলোচনা থেকে এক পর্যায়ে গায়ে ধাক্কাধাক্কিও করেছেন জেরার্ড জোন্স। এমনকি মিশুকে উজবেকিস্তান নিতে চান না তিনি। এ নিয়ে অবশ্য দুই জনের কারোরই কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেরার্ড জোন্সের কোচিং সনদে ভালো হলেও আচার-আচরণ একেবারেই বিস্ময়কর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেডারেশন তার অ্যাকাউন্ডে বেতন দিলেও তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিবারের কষ্ট আর নিজের জীবন শঙ্কার বিষয় পোস্ট করেন। ব্যাংকের মধ্যে তিনি ব্যাংকার ও বাফুফে স্টাফের সঙ্গেও অসাদাচারণ করেন। পরবর্তী পর্যায়ে কোচদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছেন।

জেরার্ড জোন্সের কোচিং সনদে ভালো হলেও আচার-আচরণ একেবারেই বিস্ময়কর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেডারেশন তার অ্যাকাউন্ডে বেতন দিলেও তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিবারের কষ্ট আর নিজের জীবন শঙ্কার বিষয়ে পোস্ট করে কদিন আগে আলোচনায় এসেছিলেন।
বাংলাদেশ অ-২০ দলে কোচ সমস্যা নতুন নয়। এর আগে আরেক ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্স ছিলেন। তার কোচিং সনদ এবং যোগ্যতা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এবার নতুন কোচ জোন্সের সনদ হাই প্রোফাইল হলেও আচরণ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। দুই কোচেরই বাছাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকা ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য সামিদ কাশেমের পর্যবেক্ষণ,‘সিভি পর্যালোচনা এবং সাক্ষাৎকারে আমরা সকল কিছুই দেখেই সিদ্ধান্ত নেই। এক্ষেত্রে কিছুটা বেনিফিট অফ ডাউট দিতেই হয়। সরাসরি কাজ না করলে তো আসলে অনেক কিছুই একজন সম্পর্কে জানা যায় না।’

জেরার্ড জোন্সের সঙ্গে বাফুফের চুক্তি দুই বছরের। উজবেকিস্তান টুর্নামেন্টের পর আর এই কোচকে রাখতে চাইছে না ফেডারেশন। কোচও নানা অজুহাত কিংবা অভিযোগ দাঁড় করিয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন পক্ষের ধারণা, কোচ দ্রুত বাংলাদেশ থেকে চলে গিয়ে ফিফায় আবেদন করে কয়েক মাসের কিংবা পুরো চুক্তির অর্থই নেওয়ার পায়তারা করছে।

 

আরও পড়ুন