আন্তর্জাতিক ফুটবলের মিডিয়া ও বিপণন স্বত্ব পেতে বিভিন্ন দেশের ফুটবল কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনার দুই ক্রীড়া বিপণন নির্বাহী। হুগো জিনকিস ও তার ছেলে মারিয়ানো জিনকিস যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে এই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
হুগো ও মারিয়ানো দুজনই আর্জেন্টিনার ক্রীড়া বিপণন প্রতিষ্ঠান ফুল প্লের সহ-মালিক। ২০১৫ সালে ফিফাকে ঘিরে শুরু হওয়া ব্যাপক দুর্নীতির তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল।
আদালতের নথি অনুযায়ী, বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব, কোপা আমেরিকাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সম্প্রচার ও বিপণন স্বত্ব নিজেদের প্রতিষ্ঠানের আওতায় আনতে তারা ঘুষের একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। এ জন্য ফিফা, কনকাকাফ ও কনমেবলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, জিনকিসরা বিভিন্ন ফুটবল কর্মকর্তাকে বিপুল অঙ্কের বাণিজ্যিক ঘুষ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর লাভজনক মিডিয়া ও বিপণন স্বত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছিলেন তারা।
২০১৫ সালের তদন্তে শুধু জিনকিস বাবা-ছেলেই নয়, বিশ্ব ফুটবলের প্রশাসনিক কাঠামোর নানা স্তরের দুর্নীতির তথ্য সামনে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তের অংশ হিসেবে জুরিখে ফিফার কর্মকর্তাদের কার্যালয়েও অভিযান চালানো হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন দেশের ফুটবল কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার, বিচার এবং দোষ স্বীকারের ঘটনা ঘটতে থাকে।
এবার সেই মামলায় আদালতের বাইরে সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছেন জিনকিসরা। সমঝোতা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আনা প্রতারণার অভিযোগ প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ। তবে এর বিনিময়ে ৫০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছেন তারা।
ফিফার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি কেলেঙ্কারিগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত ২০১৫ সালের সেই তদন্ত বিশ্ব ফুটবল প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তনের চাপ তৈরি করেছিল। সেই ঘটনার বহু বছর পর জিনকিস বাবা-ছেলের স্বীকারোক্তি কেলেঙ্কারিটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সামনে আনল।
